মনীষীদের জীবনীর অনুসরণীয় দিক (পাঠ : ৭)

চরিতমালা - বৌদ্ধধর্ম শিক্ষা - ষষ্ঠ শ্রেণি | NCTB BOOK

262

কোনো মহৎ জীবনই সহজে গড়ে ওঠে না। এর জন্য প্রচেষ্টা ও সাধনা করতে হয়। যাঁরা এরূপ কীর্তিমান জীবন গঠনে সক্ষম হন, তাঁরা অমরত্ব লাভ করেন। ইতিহাসে তাঁরা অমর হয়ে থাকেন। যুগ-যুগান্তরের মানুষ তাঁদের আদর্শ ও গুণাবলি অনুশীলন করেন। মহৎ মানুষের জীবনাদর্শে আমাদের অনুসরণীয় অনেক বিষয় রয়েছে। তাই এই জীবনীসমূহ পাঠ করে শুধু মানসিক আনন্দ লাভ করলেই হবে না, আদর্শিক দিকগুলোও আমাদের অনুশীলন করতে হবে। আবেগে কোনো কিছু অর্জন করা সম্ভব নয়। একাগ্র অনুশীলন ও অনুসরণের মাধ্যমেই একমাত্র লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হয়। গৌতম বুদ্ধ নৈতিকতার আদর্শ অনুসরণে জীবনকে সুন্দর করার জন্য অনেক উপদেশ দিয়েছিলেন।
বুদ্ধের সময়ে বক্কলি নামে একজন মুনি ছিলেন। তিনি বুদ্ধের খুবই ভক্ত ছিলেন। তিনি সর্বদা বুদ্ধের জ্যোতির্ময় দেহাবয়বের দিকে ভক্তিচিত্তে একদৃষ্টিতে চেয়ে থাকতেন। ভগবান বুদ্ধ দীর্ঘদিন পর্যবেক্ষণ করে একসময় তাঁকে ডেকে বললেন; এই ধ্বংসশীল দেহাবয়বের দিকে চেয়ে থেকে ফল কী? নীতি-আদর্শ অনুসরণ করো। আবেগ ত্যাগ করো। নিজের মধ্যে জ্যোতির্ময় আলোক উৎপাদনের বীজ বপন করো। নিজেকে আলোকময় করে গড়ে তোলো। বুদ্ধের এই উপদেশ লাভ করে বক্কলি ঋষি সাধনায় রত হলেন এবং অচিরেই অর্হত্ব ফলে উন্নীত হন।
অনুরুপ আর একটি ঘটনা জানা যায়। তখন বুদ্ধ উরুবিল্ব নগরে পরিভ্রমণ করছিলেন। সে সময় উরুবিল্ব বনে বাস করতেন তিনজন ঋষি। উরুবেলাকশ্যপ, নদীকশ্যপ ও গয়াকশ্যপ তিন ভাই। তাঁরা নিজ নিজ শিষ্য নিয়ে পৃথক পৃথকভাবে সেখানে বাস করতেন। তাঁরা কারো নীতি অনুসরণ করতেন না। নিজেদের ধারণা মতে গরমে ও আগুনে তপ্ত হয়ে এবং ঠান্ডায় পানিতে ডুবে থেকে দুঃখ মুক্তির চেষ্টা করতেন। বুদ্ধের সাথে সাক্ষাৎ হলে বুদ্ধ তাঁদের উপদেশ দেন।

বুদ্ধ বলেন, পানিতে ভিজে বা রোদে পুড়ে মানুষ পরিশুদ্ধ হতে পারে না। বুদ্ধ তাঁদের কাছে নিজের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ কিছু কথা বর্ণনা করেন। তারপর বলেন, জীবনকে পরিশুদ্ধ করতে হলে আদর্শ ও নৈতিকতার অনুশীলন আবশ্যক। পরে তাঁরা বুদ্ধের কাছে দীক্ষা গ্রহণ করে ব্রহ্মচর্য পালনের মাধ্যমে মুক্তি অন্বেষণে ব্রতী হন।
সুতরাং মহৎ জীবন গঠনের জন্য মহৎ আদর্শের অনুসরণ আবশ্যক। আমাদের জীবনকে খ্যাতিসম্পন্ন ও জ্যোতির্ময় করার জন্য আলোকিত ব্যক্তিদের জীবনাদর্শ অনুসরণ করা একান্ত প্রয়োজন। থের-থেরী ও বিশিষ্ট বৌদ্ধ মনীষীরা আদর্শের পথিকৃৎ। তাঁদের জীবনচরিত থেকে তাঁদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য, অধ্যবসায়, সংযম ও অনুশীলনীয় নীতি সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করতে পারি। তাঁদের জীবনীর এই অনুসরণীয় দিকগুলো সঠিকভাবে অনুশীলন করতে পারলে সকলের জীবন সার্থক ও সফল হবে।

Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...